বৃহস্পতিবার । ১২ই মার্চ, ২০২৬ । ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২

যশোরে অপহরণের ৯ দিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ব্যবসায়ী উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোরে কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে ৯ দিন পর উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা। বুধবার (১১ মার্চ) রাতে চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খলশি গ্রামের একটি নির্জন ইটভাটা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চলে এ অভিযান। এরপর রাত সাড়ে ১২টায় তাকে যশোর র‌্যাব ক্যাম্পে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এটিএম ফজলে রাব্বী প্রিন্স।

সূত্র জানায়, যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের ‘আর আর মেডিকেল’ ও ‘জে আর এগ্রোভেট’ নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রতিদিনের মতো ২ মার্চ রাত ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। পথে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোন দিয়ে তার মা ও স্ত্রীর কাছে কল করা হয়। তাকে জীবিত ফেরত পেতে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং বিষয়টি পুলিশকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয়।

অপহরণের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর ফলাফল না পেয়ে গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনের পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬ এর সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এটিএম ফজলে রাব্বী প্রিন্সের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। বুধবার দিবাগত রাতে চৌগাছা উপজেলার খলশি গ্রামের একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে হাত-পা বাঁধা ও বিধ্বস্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই অপরাধীরা আটক হবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন